• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের একের পর এক নৃশংসতা

নিজস্ব প্রতিদেক / ১৫০ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১
‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসা

বিশেষ প্রতিবেদক

নিজ দেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের একটি অংশ দিন দিন বেপরোয়া ও হিংস্র হয়ে উঠছে। ইয়াবা, মানব পাচার ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে একাধিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে তাদের অপরাধ। এমনকি মারামারি খুনাখুনির পাশাপাশি ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে। আর এসব কর্মকাণ্ড ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে বলে দাবি রোহিঙ্গাদের একটি অংশ ও স্থানীয়দের।

তারা বলছেন, নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া আটকাতেই এসব করা হচ্ছে। এতে করে সাধারণ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাংলাদেশিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের এক মাস পার না হতেই শরণার্থী শিবিরের এক মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ছয়জনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা।

৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. শিহাব কায়সার খান বলছেন, শুক্রবার ভোর রাত ৪ টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৮ নম্বর ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই হামলা হয়। নিহতরা সবাই ওই ক্যাম্পের এইচ-৫২ ব্লকের ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্র বা ভলান্টিয়ার। আরও কয়েকজনকে আহত অবস্থায় ক্যাম্প সংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্যাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছি আমরা। এপিবিএন এর এক বার্তায় হামলাকারীদের বর্ণনা করা হয়েছে ‘রোহিঙ্গা দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে। সেখানে বলা হয়, হামলায় ঘটনাস্থলেই চার রোহিঙ্গা নিহত হন। খবর পেয়ে ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

হামলায় জড়িত সন্দেহে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার নাম মুজিবুর রহমান। তার কাছ থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, ৬ রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে এপিবিএন। কর্মকর্তারা বলছেন, ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় ‘মদুতুল উম্মা’ মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ‘ব্লকরেইড’ (ঘেরাও করে তল্লাশি) চালিয়েছিলেন। অন্যান্য ক্যাম্প এলাকাতেও একই সাথে অভিযান চালানো হয়েছে। এর ঘণ্টা দেড়েক পর দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় ওই হামলা হয়।

নিহতরা হলেন- ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ১২ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. ইদ্রীস (৩২), নয় নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন (২৪), মাদ্রাসার ছাত্র ও ১৮ নম্বর ক্যাম্পের আজিজুল হক (২২), একই ক্যাম্পের ভলান্টিয়ার মো. আমীন (৩২), মাদ্রাসার শিক্ষক ও ১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর আলম ওরফে হালিম (৪৫), মাদ্রাসার শিক্ষক ও ২৪ নম্বর ক্যাম্পের হামিদুল্লাহ (৫৫)।

জানা গেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে পরিণত হওয়া কক্সবাজারের এই ক্যাম্পগুলোতে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেগুলোকে ‘রোহিঙ্গা ডাকাত’ বা ‘চোরাকারবারিদের’ কাজ বলা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ খুন হওয়ার পর ক্যাম্পে সক্রিয় বিভিন্ন পক্ষের অনেক বিষয় এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় আসছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কুতুপালং-১ (ইস্ট) লম্বাশিয়া ক্যাম্পের ডি-৮ ব্লকে গুলি করে হত্যা করা মুহিবুল্লাহকে, যিনি আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নামের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, প্রত্যাবাসনের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করা মুহিবুল্লাহকে রোহিঙ্গাদের আরেকটি সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) হত্যা করেছে।

সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরসা, আল ইয়াকিনসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। প্রতিশোধ পরায়ণ এই গ্রুপগুলো একের পর এক রক্তপাতসহ নানা অপকর্ম করছে। গত চার বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। হামলা-পাল্টা হামলার জের ও প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা খুব একটা আলোচনায় আসেনি। কিন্তু সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছে যিনি ছিলেন হিরো, সেই মুহিবুল্লাহ’র হত্যাকাণ্ডের পর সব মহলের টনক নড়েছে। মুহিবুল্লাহ’র মতো জনপ্রিয় নেতাকে হত্যার পর সাধারণ রোহিঙ্গারা এক ধরনের চাপা আতঙ্কে রয়েছেন। নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিয়েও অনেকে অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন।

সাধারণ রোহিঙ্গা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে অন্তত ১৫-২০টি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। প্রত্যেক বাহিনীর সদস্যদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। সন্ধ্যার পর থেকে ক্যাম্পগুলোতে এরা রামরাজত্ব কায়েম করে। দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকলেও রাতে তা অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়ে।

অসমর্থিত সেই রোহিঙ্গা সূত্র মতে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রাণ রক্ষায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেন প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের এ রোহিঙ্গা আগমনের পূর্বে নব্বই দশকের শুরু থেকে নানা কারণে আরও প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। নতুন-পুরাতন মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে উখিয়া-টেকনাফের প্রায় ১০ হাজার একর পাহাড়ি জমিতে ৩৪টি ক্যাম্প করে একত্রে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয় কেন্দ্র গড়া হয়। রোহিঙ্গাদের উপর ঘটা চরম অমানবিক এ ঘটনার জন্য সারাবিশ্ব মিয়ানমারকে ধিক্কার দেয়ার পাশাপাশি নানাভাবে সমালোচনা শুরু করে। এরপর থেকে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা চালিয়ে আসছে মিয়ানমার জান্তারা।

সূত্রের দাবি, মিয়ানমার সামরিক জান্তারা কৌশলে ক্যাম্পে থাকা লোকজনকে হাত করে মারামারি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করায়। রোহিঙ্গাদের দ্বারা সংগঠিত অপরাধকর্ম নিয়ে মিয়ানমারের অর্থায়নে কিছু গণমাধ্যমকর্মী দ্রুত প্রতিবেদন তৈরি করে প্রচার করে। এসব প্রতিবেদন আবার সংগ্রহ করে মজুদ করছে মিয়ানমার সেনারা।

অভিযোগ রয়েছে, বেশির ভাগ সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের যোগাযোগ রয়েছে। ক্যাম্প অশান্ত করার জন্য এসব সন্ত্রাসী গ্রুপকে কোটি কোটি টাকা ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে মিয়ানমার। মূলত বিশ্বের দরবারে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত করতে মিয়ানমার সরকার সশস্ত্র বিদ্রোহী সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে ইন্ধন যোগাচ্ছে।আর রোহিঙ্গারা অর্থের লোভে পড়ে নিজেদের সর্বনাশ ডেকে আনছে। এসব নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত চার বছরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ১২ ধরনের অপরাধে ১ হাজার ২৯৮টি মামলা হয়েছে। এতে আসামি হয়েছে ২ হাজার ৮৫০ রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ দ্বারা সংঘটিত অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদক পাচার, মানব পাচার, পুলিশের ওপর হামলা ইত্যাদি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭৭টি খুনের মামলা হয়েছে চার বছরে। এ সময় ৭৬২টি মাদক, ২৮টি মানব পাচার, ৮৭টি অস্ত্র, ৬৫টি ধর্ষণ ও ১০টি ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৩৪টি মামলা হয়েছে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অপরাধে। অন্যান্য অপরাধে হয়েছে ৮৯টি মামলা। গেল ৪৮ মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় ২২৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩৫৪ জন। ২০১৮ সালে ২০৮ মামলায় আসামি ৪১৪ জন। ২০১৯ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৬৩টি। যার আসামি ৬৪৯ জন। ২০২০ সালে ১৮৪ মামলায় হয়েছে ৪৪৯ আসামি।

বর্তমান ক্যাম্পে সক্রিয় গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়েছে মাস্টার মুন্না বাহিনী, মৌলভী বাহিনী, রকি বাহিনী, শুক্কুর বাহিনী, আব্দুল হাকিম বাহিনী, সাদ্দাম গ্রুপ, জাকির বাহিনী, নবী হোসেন বাহিনী, পুতিয়া বাহিনী, সালমান শাহ বাহিনী, গিয়াস বাহিনী, শাহ আজম বাহিনী সহ বিভিন্ন গ্রুপ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এসব গ্রুপের নাম জানা গেছে।

স্থানীয় গ্রামবাসীদের ধারণা, রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহসহ শুক্রবারের ৭জন কে হত্যা ও এর আগে কয়েকদফা অগ্নিকাণ্ডটি ‘পরিকল্পিত’। এলাকার বাজারে আসা-যাওয়া করা সাধারণ রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন এসব ঘটনাটি ‘আত্মঘাতী’। তবে এসব বিষয় নিয়ে রোহিঙ্গারা বেশি মুখ খুলতে রাজি নন। কারণ, যারা এ ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে তারা ক্যাম্পটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তাদের ভয়ে সাধারণ রোহিঙ্গারা মুখ খুলতে পারেন না। এসব রোহিঙ্গাদের কাছে এক প্রকার জিম্মি তারা।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবছার চৌধুরী বলেন, ‘শুনেছি ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা দুই গ্রুপে বিভক্ত। তাদের এক গ্রুপ বিপথগামী, অপর গ্রুপ সাধারণ নিরীহ। অস্ত্রধারী রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরতে নারাজ। তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নস্যাৎ ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়।’ এসব রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাধারণ রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, সশস্ত্র রোহিঙ্গারা এমন কোনো খারাপ কাজ নেই যা তারা করতে পারে না। তারা দল বেধে ক্যাম্পে ক্যাম্পে অরাজকতার চেষ্টা করে। ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে এ পর্যন্ত ৭০ জনেরও অধিক রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরটি আমার ইউনিয়নে। তাই ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। মুহিবুল্লাহসহ আজকের ৭জনকে হত্যার ঘটনার পর থেকে আমার কাছে যেসব খবর এসেছে তাতে মনে হচ্ছে ঘটনাটি পরিকল্পিত।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক শিহাব কায়সার বলেন, ঘটনার পর থেকে এপিবিএন ও জেলা পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন