• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

মুহিবুল্লাহ হত্যা: আরসার-আল ইয়াকিন নেতারা ক্যাম্পে আত্মগোপন

নিজস্ব প্রতিদেক / ২১২ বার ভিউ
আপডেট সময় : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ। ফাইল ছবি।

ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার দায় অস্বীকার করেছে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)। সশস্ত্র এ গোষ্ঠীর মুখপাত্র মৌলভী সোয়েব দাবি করেছেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের সাথে আরসা কোনোভাবে জড়িত নয়। মিয়ানমার সরকারের এজেন্টরাই মুহিবুল্লাহ হত্যায় জড়িত।

হত্যাকাণ্ডের পর মুহিবুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহ এ ঘটনায় আরসার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করছিলেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে অডিও বার্তা প্রচার করে আরসা।

মৌলভী সোয়েব বলেন, ‘আমাদের ভাই মাস্টার মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার বিচার নিয়ে কাজ করছিলেন। পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার প্রচেষ্টা ছিল অসাধারণ। এমন একজন রোহিঙ্গা নেতাকে হত্যা রোহিঙ্গা জাতির জন্য বড় ক্ষতি।’

তিনি বলেন, এর আগেও মে মাসের ১৫ তারিখে আরেক রোহিঙ্গা নেতা শওকত আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ দুই নেতার হত্যা নিয়ে আরসা অত্যন্ত মর্মাহত ও ব্যথিত।

আরসা কমান্ডার ইন চিফ আবু আম্মার জুনুনীর পক্ষ থেকে এই বিবৃতি দাবি করেন মৌলভী সোয়েব। তিনি মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তার এই অডিও বার্তা ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। আরসার পক্ষ থেকে একটি ভিডিও ক্লিপও প্রচার করা হয়েছে। তাতে মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ‘প্রত্যক্ষদর্শী’ কয়েকজনের বক্তব্য রয়েছে।

আত্মগোপনে অনেক নেতা : একজন রোহিঙ্গা মাঝি (নেতা) বলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে আমরা জিম্মি। সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তাদের দিতে প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়। এভাবে আর কতদিন সম্ভব? ভয়ে আতঙ্কে ক্যাম্প ছেড়েছি।’

আবদুর রশিদ নামে আরেক রোহিঙ্গা নেতা জানান, ক্যাম্পে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ অত্যন্ত তৎপর। তারা নানাভাবে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করে। মাদক কারবারে জড়িত হতে বাধ্য করে। আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তারা রোহিঙ্গা নেতাদের হত্যা করছে।

উখিয়া ক্যাম্পের নেত্রী জামালিদা বেগম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে যারা রোহিঙ্গা অধিকার নিয়ে কাজ করেন, তারা সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

এ দিকে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে আল ইয়াকিন নেতারা ক্যাম্পের মধ্যে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে একাধিক রোহিঙ্গা জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পে তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহর হত্যার মধ্য দিয়ে মানবতার খাতিরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে যে সম্মান রয়েছে বাংলাদেশের সেই সম্মান ম্লান হতে বসেছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ তাদের বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছেন। মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যার পর তারা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। যেকোনো সময় ফের বড় ধরনের ঘটনা ঘটবে না এমনটি উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পগুলোতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, গোলাগুলিতে খুন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে থাকা ক্যাম্পে যেকোনো সময় ফের বড় ধরনের সঙ্ঘাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা, আল ইয়াকিনসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে। এরা প্রতিশোধ পরায়ণ। তাই একের পর এক ঘটনা ঘটছে। দিনের বেলায় ক্যাম্প স্বাভাবিক মনে হলেও রাতের বেলায় চিত্র পাল্টে যায়। ক্যাম্পে অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছে। তবে এসব ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছে না সাধারণ রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারে থাকাকালে বিরোধের জের এবং নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের পক্ষে থাকায় পুরনো রোহিঙ্গাদের চক্ষুশূল হয়ে উঠেছে। এ কারণে ক্যাম্পে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোহিঙ্গা জানান, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের নেতাদের সাথে আনরেজিস্টার্ড ক্যাম্পের নেতাদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল রয়েছে। এক রোহিঙ্গা অন্য রোহিঙ্গাকে সহ্য করতে না পারায় এবং নেতৃত্বের আধিপত্যকে ঘিরে ক্যাম্পের পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে।

শিক্ষিত এক রোহিঙ্গা যুবক জানান, দীর্ঘ দিন ধরে রেজিস্টার্ড ও আনরেজিস্টার্ড ক্যাম্পের দুই গ্রুপের মধ্যে চাঁদাবাজি, অপহরণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে দফায় দফায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এক রোহিঙ্গা নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বরের কথা আমরা ভুলিনি। অপহরণ, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ই-ব্লকের মোহাম্মদ ফরিদ ও এফ-ব্লকের নুর হাশিম, মাস্টার মুন্না এবং আনরেজিস্টার্ড ক্যাম্পের নেতা রফিক উদ্দিন, হাফেজ জাবেদ ও সাইফুলের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়। সেই থেকে ক্যাম্পে অপহরণ, বাড়ার পাশাপাশি রাতে মুখোশধারী সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েছে। এতে করেই সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান তিনি। বছর যেতে না যেতেই আবারো গুলি করে হত্যা করেছে আমাদের রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহকে। দেশ-বিদেশে তার সুনাম ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নেতৃত্ব দেয়ায় তাকে সহ্য করতে না পেরে খুন করেছে তার প্রতিপক্ষরা। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, অপহরণকারী ও মুখোশধারী রোহিঙ্গা অপরাধী বাড়ছে। প্রত্যাবাসনের পক্ষে-বিপক্ষে রোহিঙ্গারা দ্বিধা-বিভক্তিতে রয়েছে। তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষ-গোলাগুলি লেগেই থাকে। হত্যাকাণ্ড-চাঁদাবাজি ঘটছে প্রতিনিয়ত ঘটছে। এতে আমরা স্থানীয়রাও আতঙ্কে আছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব বেড়ে গেছে। তাদের সব সময় তৎপর দেখা যায়।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ নিহত হওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। মাস্টার মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান ছিলেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে এআরএসপিএইচ কার্যালয়ে একদল অস্ত্রধারীর গুলিতে তিনি নিহত হন।

 

সূত্র- নয়া দিগন্ত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন