• বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

যে ভাবে ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল

নিজস্ব প্রতিদেক / ২৯৯ বার ভিউ
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

ডেস্ক রিপোর্টঃ

এ বার কিন্তু আমাদের সচেতন হওয়ার সময় এসে গিয়েছে। এ বার আমরা একেবারে খাদের ধারে চলে এসেছি

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন: এলাকার ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বিপন্ন। সময় এসেছে সচেতনতার। কারণ, সময়ের সঙ্গে এখানে যে পরিবেশ-পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে, সেটা অনেকের কাছেই অজানা থেকে যাচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের নিষেধ সত্ত্বেও একদল অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী, লোভী বনকর্মী এবং এলাকা বিশেষে বেশ কিছু ক্ষমতালোভীর জন্য সুন্দরবনে বহু দিন ধরেই চলছে অবাধে বৃক্ষচ্ছেদন। সুন্দরবনে রয়েছে দুর্লভ কিছু গাছ যেমন— ধুধুঁল, পশুর, গরান, হেঁতাল, শাল, গেওয়া, সুন্দরী, সেগুন-সহ আরো অনেক। নিয়মিত ভাবে এই সব গাছ কাটার ফলে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য আজ বিপন্ন। এবং এ ভাবে চলতে থাকলে অচিরেই হয়তো এটি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।

সুন্দরবনের অমূল্য বনসম্পদের এই হাল হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। এর ফলও হাতে হাতে মিলছে। দেখা যাচ্ছে, এখানে আছড়ে পড়ছে আয়লা, বুলবুলের মতো একের পর এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে জলোচ্ছ্বাস বাড়ছে। পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ এলাকা সুন্দরবনের নাম সমগ্র বিশ্বের কাছে সুপরিচিত ও আকর্ষণীয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। সেটা সাধারণ মানুষের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে। মাছের ভেড়ির জন্য অবাধে ম্যানগ্রোভ কাটা হচ্ছে।

বিশেষ সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ১৯ শতকের প্রথম ভাগের সমীক্ষা অনুযায়ী, সুন্দরবনের আয়তন ৯৬৩০ বর্গ কিমি। যার বিস্তার দক্ষিণ বঙ্গের নিম্ন প্রান্তে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পর্যন্ত। দীর্ঘ দিন ধরে এ অঞ্চলে জনবসতি গড়ে ওঠায় এখানকার আদি বনভূমির অনেকটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। ৫৩৬৬ বর্গ কিমি জঙ্গল আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। বাদবাকি ৪২৬৪ বর্গ কিমি মধ্যে ৪১ ভাগ জল।

তবে, সাম্প্রতিক এক বিশেষ সমীক্ষায় দেখা গেছে, জলের এলাকার অনুপাত বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। অর্থাৎ, বনভূমি আছে মাত্র ২০০০ বর্গ কিমির কিছু বেশি অংশে। পশ্চিমবঙ্গের বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরবন থেকে কাঠ কাটার জন্য কমবেশি ৩৪০টির মতো নৌকাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়ে থাকে প্রতি বছর । এ জন্য ১০- ১২ হাজার টন কাঠ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে নির্দিষ্ট এই পরিমাণের থেকে একশো গুণ বেশি কাঠ চোরাপথে জঙ্গল থেকে কেটে নিয়ে আসছে এক ধরনের অসাধু চক্র।

এই চক্রগুলি বিশেষ করে ধ্বংস করছে বিরল প্রজাতির বিভিন্ন গাছ। যদিও ওই সমস্ত গাছ কাটা নিষিদ্ধ। আকাশ ছোঁয়া দামের জন্য শাল-সেগুন কাঠের ব্যবহার আজ সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে। সুন্দরবন এলাকার বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, গোসাবা, শামসেরনগর, বাসন্তী, কুলতলি, রায়দিঘি, পাথর প্রতিমা, নামখানা, কাকদ্বীপ, ঝড়খালি প্রভৃতি স্থানের বাজারে গেলে দেখা যাবে, প্রচুর পরিমাণে বড়ো বড়ো গাছের গুঁড়ি সেখানে বিক্রি হচ্ছে। গাছগুলি বিক্রি হয়ে চলে যাচ্ছে এলাকার কাঠ চেরাই কলগুলিতে। তার পর সেগুলি থেকে নানারকম আসবাবপত্র তৈরি হয়ে চলে যাচ্ছে কলকাতার বড়ো বড়ো আসবাবের দোকানে।

এ বিষয়ে রায়দীঘি ও কুলতলির কয়েকজন গ্রামবাসীর অভিযোগ, এই কাজে এক শ্রেণির বনকর্মী, পুলিশ এবং রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। জানা গিয়েছে, সুন্দরবন এলাকার মূল্যবান কাঠ পাচারের বিষয়ে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দুষ্ট চক্র বরাবরই সক্রিয় রয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে জানান, এত বিশাল অরণ্য পাহারা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক বনকর্মীর অভাব রয়েছে। এ দিকে, নির্বিচার অরণ্য ধ্বংসের ফলে বাঘেদের নিরাপদে থাকার জায়গার পরিমাণও কমছে। ফলে এরা নদী সাঁতরে ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে।
গোসাবার আদিবাসী এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, বাঘের হামলার ভয়ে প্রায় প্রতি রাতেই তাঁদের আলো নিয়ে বাড়ি-ঘর পাহারা দিতে হয়।

অন্য দিকে পরিবেশকর্মী থেকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বার কিন্তু আমাদের সচেতন হওয়ার সময় এসে গিয়েছে। এ বার আমরা একেবারে খাদের ধারে চলে এসেছি। এখনই সচেতন হলে হয়তো তবুও খানিকটা প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁচাতে পারব। এই সময়টা চলে গেলে তখন আর বিপদের শেষ থাকবে না। তাই আমাদের সবার আপন সুন্দরবনকে বাঁচাতে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। আটকাতে হবে এই ম্যানগ্রোভ নিধন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন