• বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কক্সবাজারের পুত্রবধূ হালিমা খাতুন উপসচিব পদে পদোন্নতি টেকনাফে মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার ৫৩৩ উপজেলা হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী একই জমি দুইবার বিক্রির অভিযোগ : টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রারকে ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজার পৌরসভার অর্থায়নে সেগুনবাগিচায় ৪টি রাস্তা নির্মাণ শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির করণীয় বিষয়ে যা পরামর্শ দিলেন : ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজ উদ্দীন যে ৫ কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারে আর্জেন্টিনা! টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ইয়াবা পরিবহনের দায়ে রোহিঙ্গা তরুণীর কারাদন্ড নিয়োগ দেবে কারিতাস এনজিও : কর্মস্থল কক্সবাজারের উখিয়া

গ্রামীণ জীবনে চাই নাগরিক সুবিধা

নিজস্ব প্রতিদেক / ২৩২ বার ভিউ
আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০

মো. রাশেদ আহমেদ:

বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি, যার দুই-তৃতীয়াংশ বাস করে গ্রামে। তবে দিন দিন গ্রামের মানুষ শহরের যান্ত্রিক জীবনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্যের চাহিদা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়তা এবং শহর জীবনের বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে যুগ যুগ ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। অথচ তারাই যুগের পর যুগ ধরে অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে বেশি। ব্রিটিশ আমলে পঞ্চসনা বন্দোবস্ত, দশসনা বন্দোবস্ত, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত- সবই ছিল কৃষকদের শোষণের হাতিয়ার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কৃষকরা রাজস্ব পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাদের জীবনে নেমে আসত পাশবিক নির্যাতন।

বর্তমান গ্রামীণ জীবনে কৃষকরা স্বাধীন হলেও আজও তারা নানা বৈষম্যের বেড়াজাল থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। এমনকি বর্তমানেও নিজ হাতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনির মাধ্যমেও কৃষকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এ কৃষকরা যখন বয়সের ভারে নুয়ে পড়ে তখন ভালো চিকিৎসাটা পর্যন্ত তাদের কপালে জোটে না। অথচ তাদের হাতে গড়া আজকের এই আধুনিক সমাজ।

যে কোনো দেশের উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন না হওয়া। অর্থাৎ আধুনিক যুগে এসে গ্রামকে আড়ালে রেখে খুব বেশি অগ্রগতি সম্ভব নয়। এ জায়গায় বাংলাদেশ অনেকটা পিছিয়ে। দেশের শহরগুলোয় যে ধরনের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে, সে তুলনায় গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন খুবই নগণ্য। গ্রামের লোকদের ছোটখাটো অসুখ হলেও ছুটে আসতে হয় শহরের হাসপাতালে। গ্রামের মানুষ একটু ভালো জীবন নির্বাহের আশায় শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে শহরমুখী মানুষের চাপ দিন দিন বাড়ছে। ঢাকা নগরী এর উদাহরণ, যা অন্যান্য বড় শহরের জন্য অশনিসংকেত।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারকে গ্রামের উন্নয়নের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলতে হবে শিল্প-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বড় বড় বিপণিবিতান। কৃষকের বিভিন্ন ধরনের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের গ্রামে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করতে হবে এবং এজন্য পরিবেশ সৃষ্টি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রামীণ জীবনে উন্নয়ন পরিলক্ষিত হবে, তেমনি শহরমুখী মানুষের চাপও অনেকাংশে কমে যাবে ।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্বাস করতেন গ্রামের উন্নতির মধ্যেই সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভরশীল। কারণ আমাদের শহুরে জীবনের সবকিছুই গ্রাম থেকে আসা। তাই গ্রামের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে দেশের উন্নয়ন ঘটবে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বিপুল এ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য কৃষিকে বহুমুখী করার বিকল্প নেই। ইউরোপের অনেক দেশ গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের শহরমুখী অর্থনীতিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে রূপ দিয়েছে। বাংলাদেশকেও যেতে হবে গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়নের পথে। গ্রামীণ জীবনে আধুনিক নাগরিক ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

মো. রাশেদ আহমেদ : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন