চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসন। রোববার (৭ জানুয়ারি) সারা বাংলাদেশের মতো এই আসনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কক্সবাজারের চারটি আসনেই মধ্যে এটি একটি। তবে এই আসনটিতে চলছে জমজমাট। নতুন মুখ নির্বাচিত করতে ভোটাররা মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই আসনে সাতজন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এরমধ্যে এগিয়ে রয়েছে হাতঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল পদের কর্মকর্তা তিনি। ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির নেপথ্যেও রয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের অসাধারণ ভুমিকা । এসব বিষয়াদি চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পৌছে যায়। তদুপরি মানুষ একজন আস্থাভাজন ব্যক্তিকে স্থানীয় এমপি পদে পেয়ে তার প্রতি ঝুকে পড়তে শুরু করে। এরপর থেকেই উপজেলা দুইটির নির্বাচনী পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
সরেজমিন ঘুরে চকরিয়া পৌরশহর সহ কয়েকটি ইউনিয়নের ভোটারদের সাথে আলাপ হয় প্রতিবেদকের। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ভোটারদের সিংহভাগই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চকরিয়া-পেকুয়ায় আমরা পরিবর্তন চাই। ব্যক্তি কেন্দ্রীক কর্মকান্ড থেকে বেরিয়ে সার্বজনীন কাজ করলে এবং সাধারণ মানুষের সাথে সহজে মিশবে তেমন প্রার্থীকে আমরা ভোট দেবো। এ প্রশ্নের জবাবে তাদের অভিমত স্থানীয় বহিরাগত বুঝিনা সরকার প্রধান যাকে চায় তাকে আমরা ভোট দেবো, কেননা অন্য কাউকে ভোট দিলে চকরিয়া-পেকুয়াবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হবে।
কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে চকরিয়ায় আসার পর তাকে নিয়ে তেমন উত্থাপ ছিলনা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমের হাতঘড়ির পক্ষে নিবার্চন করার ঘোষণা দিয়ে দুই উপজেলার একটি পৌরসভার ও ২৫টি ইউনিয়নে একাধিক টিমে বিভক্ত হয়ে সভা ও গণসংযোগ করায় অল্পদিনেই মধ্যে ইবরাহিমের পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা গণসংযোগ ও পথ সভায় বর্তমান এমপি জাফর আলমের অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার ফিরিস্তি ও খুন সন্ত্রাসের তথ্য তুলে ধরায় গ্রামীণ জনপদের লোকজন ঝুঁকে পড়ে সৈয়দ ইবরাহিমের পক্ষে।
গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে আজ রোববার নির্বাচন। ঋণ খেলাপীর দায়ে নৌকার প্রার্থী ঝরে গেলেও এই আসনে এখন ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। স্থানীয়রা বলছেন, গত ৫ বছরে কাঙ্খিত উন্নয়নের দেখা পাননি তারা। দখল, চাঁদাবাজিসহ উল্টো নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা মতে ভোটের মাঠে তারা ইবরাহিমের পক্ষে রয়েছেন। তাছাড়া জাফরের বিরুদ্ধে তারা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেন।
জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদি প্রশ্নে ইবরাহিম বলেন, চকরিয়া পেকুয়ার মানুষ তাকে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে। এই এলাকার দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধ থেকে মুক্ত হতে চায়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাফরের পক্ষ থেকে তার পক্ষে কাজ করা লোকজনকে হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেন। তিনি বলেন, সাধারন মানুষ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে, ডাকাতির বিরুদ্ধে আমাকেই রায় দিবে। দেশকে মুক্ত করতে যুদ্ধ করেছি,এবার চকরিয়া-পেকুয়াকে দখলবাজ মুক্ত করবো।
কক্সবাজারে চারটি আসনের মধ্যে চকরিয়া- পেকুয়া আসনকে ঘিরে সবচেয়ে ঝুঁকি তৈরী হয়েছে। পুলিশ বলছে, তারা এলাকা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলো নির্ধারণ করেছেন। সেই হিসেবে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা সাজানো হয়েছে।
২৫ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৪৮৬৩০২ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৬০৫৬৩ জন আর মহিলা ভোটার ২২৫৭৩৯ জন। এই আসনে ৭ জন প্রার্থী মাঠে থাকলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কল্যাণ পার্টির প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলমের মধ্যে।