• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন ‘কালু ড্রাইভার’ কর্মস্থল কক্সবাজার : প্রজেক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেবে সেভ দ্য চিলড্রেন কক্সবাজারসহ ৫ জেলায় ভারি বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকান্ডে দুই নারীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সাগরে ভাসতে থাকা ১৩ জেলেকে উদ্ধার করল কোস্টগার্ড চকরিয়া ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা : হুমকির অডিও ঘিরে চাঞ্চল্য কক্সবাজারকে সাজালে বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার পথে সীতাকুন্ডে দুর্ঘটনায় একজন নিহত আসছে টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানের বায়োতে যা লেখা হয়েছে

স্কুল ব্যাগ নয়, তাদের কাঁধে সংসারের বোঝা

নিজস্ব প্রতিদেক / ৫৬৩ বার ভিউ
আপডেট সময় : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০
তানভীর, শহীদ, জোবায়ের ও নুর। পথে পথে পান বিক্রি করে সংসারে জোগান দেয় তারা।

ফরিদ মোহাম্মদ:

মোহাম্মদ তানভীর। সবে মাত্র ৯ বছরে পা দিয়েছে। এই বয়সে স্কুল আঙিনা মাতানোর কথা। সহপাঠীদের সাথে দিকবিদিক ঘুরাফেরা করার দিন তার। কিন্তু দারিদ্রতা কেঁড়ে নিয়েছে তার শৈশবের রঙিন দুরন্তপনা।

শহরের সমিতি পাড়ার মুহাম্মদ মতলবের পুত্র সে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তানভীর। বাবার একার পক্ষে সংসারের পুরো খরচ চালানো অসম্ভব। তাই সংসারের অভাব দুর করতে পান বিক্রি শুরু করে সে। পান, সুপারী ও সিগারেট নিয়ে পথ-প্রান্তরে বিক্রি করে দৈনিক ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা আয় করে মায়ের হাতে তুলে দেয়। সেই টাকায় কোন মতে পার হচ্ছে তাদের জীবন।

সমিতিপাড়ার আবুল কালামের পুত্র মো. শহীদুল ইসলামের গল্পটাও তানভীরের ন্যায়। নয় বছর বয়সে সে নেমেছে জীবন যুদ্ধে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শহীদুল মেঝ। পড়ালেখা করার তার প্রবল ইচ্ছে। কিন্তু তার বাবার অসুস্থতা অন্ধকারে হারিয়ে গেছে সেই স্বপ্ন। বড় ভাইয়ের সাথে রাস্তাঘাটে পান বিক্রি করে সংসার চালায় সে।

নুনিয়ারছড়া এলাকার মো. হাবিবের পুত্র মো. জোবায়ের। স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করে বড় অফিসার হবে। মনের মতো সাজাবে নিজের পরিবার। দারিদ্রতার জন্য কারও কাছে যেন হাত পাততে না হয়।

কিন্তু কল্পনাতেই তার সব আশা সীমাবদ্ধ। বাস্তব জীবনে বর্তমানে তার পেশা ফেরিওয়ালা। পান-সিগারেট ফেরি করে বেড়ানোই তার মূল কাজ। নতুবা ঘুরে না সংসারের চাকা।

তার সাথে একইভাবে পান ফেরি করে বেড়ায় সমিতিপাড়ার মো. ছিদ্দিকের পুত্র মো. নুর (৯)। পরিবারে গ্লানি টানছে সে একাই। পান বিক্রি করতে বের না হলে উপোস থাকতে হয় পরিবারের সবাইকে। আগে সমুদ্র সৈকতে ঘুরে ঘুরে পান-সিগারেট বিক্রি করতো। কিন্তু এখন করোনার কারণে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পান বিক্রি করতে হয় তাকে। অভাবের কারণে স্কুলে যাওয়া হয়নি তার।

তানভীর, শহীদ, জোবায়ের ও নুর বলেন, অন্য শিশুদের ন্যায় তাদেরও ইচ্ছে স্কুলে যাওয়ার। পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে অল্প বয়সেই সংসারের গ্লানি টানছে তারা। তাদের সব রঙিন স্বপ্ন মুছে গেছে দারিদ্রতার কাছে। পড়ালেখা তাদের কাছে সোনার হরিণ। যা দেখা যায় কিন্তু ছোঁয়া যায় না।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সমন্বয়কারী সাংবাদিক এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে তাদের স্কুলে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়া দরকার। এ জন্য প্রয়োজনে তাদের পরিবারের সাথে কথা বলতে হবে। কিভাবে এসব শিশুর অভাব দূর করা যায় তা নিয়েও পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক।

বাংলাদেশ সময় ২২০০ ঘণ্টা, ১৩ জুলাই ২০২০

এফএম/আএন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ পড়ুন