ভয়েস ওয়ার্ল্ড ডেস্ক:
ইউরোপ ভ্রমণ লেখার আগে প্রথমে কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাঈনুল ইসলাম নাসিম ভাইকে (পুরো ইউরোপের সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব) যার সার্বক্ষনিক তত্বাবধানে আমাদের ইউরোপ ভ্রমণকে আনন্দদায়ক করে করেছিল।
আমাদের ইউরোপ ভ্রমণের প্রস্তুতি ছিল প্রায় তিন বছর আগের। ২০১৯ সালে ১৫ টা দেশের বিমান, ট্রেনের টিকেট হোটেল বুকিং সহ সব প্রস্তুতি নেওয়ার পর করোনার কারনে একে একে সব ক্যানসেল হলো।
২০২২ এ আবার নতুন উদ্যোমে,আগের নিয়মেই আমার Husband আবু তাহের সব রেডি করে নিয়ে আমাদের ভ্রমণ শুরু। ভ্রমনের শুরুটা ইতালির রোম থেকে। বিভিন্ন দেশের, বিমান টিকেট, ট্রেন টিকেট, হোটেল বুকিং সব নাহয় সুন্দর ভাবে অনলাইনে করা যায়। কিন্তু দেশের বাইরে এসে লোকাল দর্শনীয় স্থান গুলোতো আমাদের চেনার কথা নয়। এই ব্যাপারে সাংবাদিক ব্যাক্তিত্ব মাঈনুল ইসলাম নাসিম ভাইয়ের কথা কৃতজ্ঞতা সহকারে আজীবন মনে রাখব।
২৮ জুলাই ইতালি সময় রোম বিমান বন্দরে ১০ টায় পৌছেই মাইনুল ভাইয়ের ফোন পেলাম, আমরা ঠিকমতো পৌছছি কিনা খবর নিলেন।উনার পক্ষ থেকে, এবং নিজ আন্তরিকতায় আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন লুৎফর রহমান ভাই। তিনি ইতালির রোমে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা।বর্তমানে রোমে আইন ও বিচার বিভাগে কর্মরত। তিনি ১৯৭৩ সাল থেকে রোম এ বসবাস করছেন। নিজের প্রফেশন নিয়ে ব্যস্ত একজন মানুষ। শুভেচ্ছা জানিয়ে চলে গেলেন না। আমাদের নির্ধারিত হোটেল Luceতে পৌছানোর ব্যবস্থা করে দিলেন। ঐদিন বিকালে আবার এসে আশপাশের সবকিছু ঘুরিয়ে দেখালেন। Roma Termini বিশাল ট্রেন স্টেশন, শপিং থেকে শুরু করে কী নেই ওখানে! অবাক হয়ে দেখলাম ভূগর্ভ কয়েক স্থরে ট্রেন লাইনও।
পরবর্তী তিনদিন আমাদের বেড়ানোকে আনন্দময় করে দিলেন এই দুজন ব্যক্তিত্ব। ২৯ জুলাই ইতালী রাষ্ট্রদূত শামীম আহসানের আমন্ত্রণে তাহেরের সাথে সাক্ষাৎকার এবং বিকালে লুৎফর ভাইয়ের সহযোগিতায় আবারও ঐতিহাসিক সব নিদর্শন এর সাথে পরিচিত হয়ে বিস্মিত হলাম দেখে, ২০০০ বছর আগেরও অনেক স্থাপনা মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসায় এখনো অমলিন হয়ে আছে, যেটা যেখানে ছিল। এখন ট্যুরিস্টদের জন্য উম্মুক্ত। পর্যটকদের উপছে পড়া ভীড়।কিন্তু কোথাও কোন কোলাহল নেই, যান্ত্রিক কোন আওয়াজ নেই। সূর্যের কড়া রোদ কিন্তু তেমন তীব্রতা নেই। সন্ধ্যা মিলায় নয় টায়। মাইলের পর মাইল খ্রীস্টপূর্ব সাম্রাজ্যের স্থাপনা এখন যাদুঘর হিসাবে রাখা।
সন্ধ্যায় রোম প্রেসক্লাব সেক্রেটারি লাবণ্য ফারুকের আয়োজনে প্রবাসি সাংবাদিকরা সংবর্ধনা দিল আবু তাহেরকে সাথে আমি। ৩০ জুলাই সকালে বুফে ব্রেকফাস্ট করেই আমরা বের হলাম রোমে বসবাসরত এক ভাগ্নীর সাথে।ভ্যাটিকেন সিটি বেড়ালাম। সন্ধ্যায় দেখলাম রোম ওস্টিয়া বীচ….. চলবে…